অমুসলিম হলে কি রুকইয়াহ করতে পারবে? কিভাবে করবে?

জ্বি, রুকইয়াহ সবাই করতে পারবে। মুসলিম/অমুসলিম কোনো ভেদাভেদ নেই এখানে। মুসলিমরা যেভাবে রুকইয়াহ করে, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান-অন্যরাও সেভাবেই কর...

Search This Blog

Wednesday, December 30, 2020

আয়াতুল হারকের আয়াতলিস্ট

আয়াতুল হারক তথা জাহান্নাম ও আযাব সংক্রান্ত আয়াতসমূহ। এইগুলো কেন পড়ে?
 
১। ওয়াসওয়সা থেকে সুস্থতা লাভের আশায়।
২। জ্বিনকে শাস্তি দেয়ার নিয়তে
৩। যাদুর জিনিস লুকানো থাকলে তা পুড়িয়ে ফেলার নিয়তে
 

Tuesday, December 29, 2020

প্রেগন্যান্ট অবস্থায় রুকইয়াহ করা যায় না?

এই কথার জবাব ব্যাখ্যা সাপেক্ষ। এমনিতে প্রেগন্যান্ট অবস্থায় রুকইয়াহ করা নিষেধ নয়। এমন নিষেধাজ্ঞা কেউ জারি করে নি। তবে প্রশ্নটা এমন হতে পারে, প্রেগন্যান্ট অবস্থায় কি আপনি রুকইয়াহ করবেন?

এই প্রশ্নের জবাব দেয়ার চেষ্টা করি। প্রেগন্যান্ট অবস্থায় একজন মেয়ের শারিরিক, মানসিক কি কি পরিবর্তন সাধিত হয়, তার কেমন লাগে সেটা একজন মা ভাল বলতে পারবেন। আর তিনি যদি বদনজর, জিন, জাদুর সমস্যার আক্রান্ত থাকেন তাহলে তা আরও দুর্বিষহ হবার কথা।
এখন এই অবস্থায় যদি রুকইয়াহ করেন তাহলে কি হতে পারে? গা ব্যথা হতে পারে, পেট ব্যথা হতে পারে, মাথা ব্যথা হতে পারে, বমি হতে পারে, জ্বর আসতে পারে। জিনের সমস্যার থাকলে জিন হাজির হতেও পারে, নাও হতে পারে। জিন হাজির না হলে তো কিছু বলার নেই, যদি হাজির হয় তাহলে কি হবে সেটা অগ্রিম বলা সম্ভব না।
মাথায় রাখতে হবে প্রত্যেক মানুষের সহ্য ক্ষমতা সমান না। কেউ সর্দি লাগলেই বিছানায়, আবার কেউ ১০২ ডিগ্রী জ্বর নিয়েও সব কাজ করছে। তেমনি প্রেগন্যান্ট হলেও সবার শারিরিক সক্ষমতা এক রকম না। এখন আপনার সক্ষমতা কেমন সেটা আপনি ভাল বলতে পারবেন। আমি বলতে পারবো না।
আপনি যদি ভয় পান উপরোক্ত সমস্যা হলে আপনি সামলাতে পারবেন না। তাহলে রুকইয়াহ করবেন না। আবার আপনি যদি মানসিকভাবে এমন শক্তিশালি হন যে, রুকইয়াহ করি ইন শা আল্লাহ। যা হবার হবে। আল্লাহ ভরসা। যদি বাবু নষ্টও হয়ে যায় আমি ধৈর্য্য ধরবো ইন শা আল্লাহ। আল্লাহর কাছে পুরষ্কার পাবো। কিন্তু আমার পিছনে যে শয়তান লেগেছে তার শেষ দেখে ছাড়বো।
আবার কারও কারও অনর্থকই বাচ্চা নষ্ট হয়ে যায়। ডাক্তার কোনো কারণ খুজে পায় না। তো এসব ক্ষেত্রে ম্যাক্সিমাম লস কি? বাচ্চা আবার নষ্ট হয়ে যাবে। রুকইয়াহ করার পরেও যদি নষ্ট হয়ে যায় তাহলেতো সেটা আগেও হত। কাজেই এই সমস্যা থাকলে রুকইয়াহ করাই উচিত।
পাশাপাশি ডাক্তারি হেল্প নিতেও কোনো সমস্যা নেই। প্রেগন্যান্ট অবস্থায় রুকইয়াহ করে সফলতার কথাও আছে, সফল হয়নি এমন কথাও আছে। এখন চেষ্টা করবেন কিনা, এই সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে। আমাদের কাছে ফায়সালা চাইলে হবে না।
আপনি প্রেগন্যান্ট কিন্তু জামাই দেখতে পারে না। জামাইকে দিয়ে রুকইয়াহ করানো পসিবল না। এখন আমি যদি আপনাকে রুকইয়াহ করতে জোর করি আর আপনি অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে গেলেন বা মাথা ঘুড়ে পড়ে গিয়ে আঘাত পেলেন, বাচ্চা নষ্ট হয়ে গেল। তখন আমাকে দোষ দিবেন। আবার রুকইয়াহ করতে মানা করলাম, তখন জামাইয়ের সাথে সম্পর্ক চরম পর্যায়ের খারাপ হয়ে গেল, তখনও দোষ আমাকেই দিবেন। বলবেন, রুকইয়াহ পরামর্শ চেয়েছিলাম। পাই নি।
কাজেই সিদ্ধান্ত আপনার। আমরা কোনো দায় নিব না। সিদ্ধান্ত নেয়ার পর পরামর্শ দিতে পারি বড়জোর।
যে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করবে, আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ঠ।

একটি ভুল কথাঃ রুকইয়াহ করলে ইফেক্ট হয়

 গ্রুপে এড হয়ে অনেকে যখন মেম্বারদের পোস্ট দেখেন, কমেন্টগুলো চেক করেন তখন দেখতে পান অমুক বদনজরের রুকইয়াহ করেছে, কেউ ডিটক্স করেছে, কেউ যাদু নষ্টের রুকইয়াহ করেছে। করার সময় তার অনেক ভয় লেগেছে, গায়ে অনেক ব্যথা হয়েছে, মন মেজাজ খারাপ হয়েছে, ভয়ংকর স্বপ্ন দেখেছে, কেউ নিষেধ করেছে রুকইয়াহ করতে অথচ কাউকে দেখা যাচ্ছে না ইত্যাদি ইত্যাদি।

দেখে ভয়ে চুপসে যান, চিন্তিত হয়ে পড়েন। ভাবেন রুকইয়াহ করলে এমন হয়, আমি করলে আমারও হবে। কাজেই রুকইয়াহ করা যাবে না। দোষটা রুকইয়াহর ঘাড়ে এসে পড়ে। একধরনের নেগেটিভ সেন্স তৈরি হয়। অথচ বাস্তবতা মোটেও এমন না।
আপনার হাতে স্যাভলন লাগলো বা লাগালেন। জ্বলবে? যদি হাতে কাটা/আচর থাকে তাহলে জ্বলবে। যদি না থাকে জ্বলবে না। কাটা
জায়গায় স্যাভলন লাগানোর পর জ্বললে সেটা স্যাভলনের দোষ? জ্বুলুনির ভয়ে স্যাভলন লাগানো বাদ দিতে হবে?
গায়ে ফোঁড়া হয়েছে। ডাক্তারের কাছে গেলেন। ডাক্তার গেলে পুজ, রস বের করে ওষুধ দিলেন। ব্যথায় অনেক চিল্লাপাল্লা করলেন, কেঁদে ফেললেন। ডাক্তারের দোষ হবে? ব্যথার ভয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়া কোনো বুদ্ধিমান বন্ধ করে?
যিনি সুস্থ মানুষ তিনি যদি রুকইয়াহ করেন কিছুই হবে না। তার ভাল লাগবে, সাধারন কুরআন তেলাওয়াতের মতই মনে হবে। আর যিনি অসুস্থ তার নানা ধরনের অসুবিধা অনুভব (সাময়িক) হতে পারে। সুস্থ হলে এইগুলো কিছুই থাকবে না।
তো, দোষ কি রুকইয়াহর হল? না। দোষ হলঃ
১। আপনার। আপনি আল্লাহর হুকুম ঠিকমত মানেন না। এই কারণে শয়তান আপনার ক্ষতি করেছে।
২। আপনার অভিভাবকের। আপনাকে দ্বীনের পথে অগ্রসর করে নি।
৩। দোষ আপনার শিক্ষক, ওস্তাদদের। আপনাকে সুরক্ষার আমল শেখায় নি।
৪। দোষ সমাজের। যেখানে দাড়ি শেভ করলে সবাই বাহবা দেয়, আর রাখলে টিটকিরি করে। (জাস্ট এক্সাম্পল)
৫। দোষ হাসাদগ্রস্থ অন্তরের। অন্যের ভাল যারা সহ্য করতে পারে না।
৬। দোষ জিনের। যে ইচ্ছা করে মানুষের পিছনে লাগে।
৭। দোষ যাদুকরের। যে যাদু করেছে। তার সহকারীদের। যাদুকরের কাছে যে গিয়েছে তাদের।
কাজেই রুকইয়াহ নিয়ে ভাবনার কিছু নেই। রুকইয়াহ করে কারও একচুল ক্ষতি হবে না। এটা আল্লাহর কালাম দিয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া। আল্লাহর সাহায্য চাইলে কারও ক্ষতি হতে পারে?
পারে না...

এত আমল করি কাজ হয় না কেন?

 [ আমার অজ্ঞতা প্রসূত কিছু ধারনা, জীবনের কিছু অভিজ্ঞতার সমষ্টি এই পোস্ট। কাজেই কোনো রেফারেন্স হবে না। যারা রেফারেন্স ছাড়া কিছু গ্রহণ করেন না, তারা এখানেই ক্ষান্ত দিতে পারেন। ]

অনেকদিন ধরে কোনো আমল করছেন বা রুকইয়াহ করছেন তাদের মধ্যে কারও কারও মনে এধরনের প্রশ্ন আসতে পারে। এই প্রশ্নের উত্তরের পালটা প্রশ্ন হল, আপনি কি করে বুঝলেন কাজ হচ্ছে না? কি প্রমাণ আছে? এই যে, সমস্যা শেষ হচ্ছে না, কাঙ্খিত বস্তু পাচ্ছি না, সুস্থ হচ্ছি না - এটাইতো প্রমাণ।
ব্যাপারটা কি সত্যিই এমন?
তর্কের খাতিরেও যদি মেনে নেই কেউ রুকইয়াহ করছে বা কোনো আমল করছে কিন্তু কোনো উপকার দৃশ্যমান হচ্ছে না তাহলে এর পিছনে কি কি বিষয় থাকতে পারেঃ
✅
আপনার ঈমানই নেই
এটা কেমন? কোনো ব্যক্তিকে ঈমানদার বলতে হলে তার কিছু মূল জিনিসের উপর দৃঢ় বিশ্বাস থাকতে হবে। যেমন, আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি মালাক বা ফেরেশতাকুল। এখন আপনি ফেরেশতায় বিশ্বাস করেন না। ঈমান আছে আপনার?
✅
ঈমান ভেঙে গিয়েছে
আপনি এমন কোনো বিশ্বাস মনে লালন করেন বা এমন কোনো কাজ করেছেন যার ফলে আপনার নাম ঈমানদারের খাতা থেকে কাটা গিয়েছে। যেমন, উঠতি বয়সি কোনো ছেলে দাড়ি রেখেছে অথবা কোনো মেয়ে নেকাব পড়া শুরু করেছে, তাই দেখে আপনি নাক সিটকালেন, জ* হয়ে গিয়েছে, লিভিং টেন্ট, তালে** হয়ে গিয়েছো। ঈমান থাকবে? আলেমদের থেকে জেনে নিবেন।
✅
আমলের উপর বিশ্বাস নেই
আমল করলে কি এটা হবে? রুকইয়াহ করলে সুস্থ হব তো নাকি? আত্মবিশ্বাস নিয়ে আমল করা। হাদিসে আসছে, এই আমল করলে এই হবে। হাদিস সত্য, অবশ্যই সত্য। কাজেই আমাকে চালিয়ে যেতে হবে।
✅
নিজের উপর আত্মবিশ্বাসের অভাব
আমল করছি ঠিকমত হচ্ছে তো? নাকি কোথাও কিছু মিস গেল? এমন করেছিলাম কি? অমন করেছিলাম কি? ভুল হল নাতো? আগে কি হয়েছে না হয়েছে সেটা না ভেবে পরবর্তীতে কিভাবে আরও সুন্দর করে করা যায় সেটা ভাবতে থাকা।
✅
অমনোযোগীতা
আমল শুরু করে করে আমি দোকানের হিসাব মিলাই, বফ/গফকে কি মেসেজ দিব ইত্যাদি চিন্তা করি, কি রান্না করবো ইত্যাদি চিন্তা করি। আমল আর আমল থাকে না, অভ্যাসে পরিনত হয়। উচিত হল, সব চিন্তা সাইডে রেখে আমলে মন দেয়া, কি পড়ছি, উচ্চারন সহি করে পড়া, অর্থ মাথায় রাখায়, দিল লাগিয়ে আমল করা। যতটুকু পারা যায়। শয়তান মন ঘুড়িয়ে দিবে, আবার টেনে নিয়ে আসতে হবে।
✅
অনাগ্রহ
এই সমস্যায় ভুগেন যারা দীর্ঘদিন ধরে কোনো আমল করছেন তারা। আমল করতে করতে হাপিয়ে যান। ধূর, আর কত আমল করবো? তখন করলেও প্রথম প্রথম যেমন আগ্রহের সাথে শুরু করেছিলেন তেমন আগ্রহ আর থাকে না। অনাগ্রহের সাথে আমল করেন, আমলে “প্রাণ” থাকে না। এটা কাম্য নয়।
✅
কবীরা গুনাহ থেকে বাঁচি না
বিজ্ঞ আলেমদের মতে, সগীরা গুনাহগুলো সালাতের দ্বারা মাফ হয়ে যায়। (সালাত সালাতের মত না হলে কতটুকু মাফ হবে সেটাও বিষয়) কিন্তু কবীরা গুনাহের জন্য তওবা করা জরুরী। তওবার মানে এই না, দুইগালে দুইটা থাপ্পড় দিয়ে মুখে তওবা তওবা বললাম। বরং আল্লাহর ভয়ে অন্তর থেকে অনুতপ্ত হয়ে উক্ত কাজ আর জীবনেও না করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করার নামই তওবা। আমলও করছি, গুনাহও করছি এমন যেন না হয়।
✅
সুদ থেকে বেঁচে থাকা
এই গুনাহের কথা আলাদা করে লিখা উচিত বলেই লিখলাম। এটা অতি জঘন্য পর্যায়ের গুনাহ। আল্লাহ তায়ালার পবিত্র, তিনি পবিত্র জিনিসই গ্রহণ করবেন। দেহের প্রতিটি রক্তকনায় বইছে সুদের দ্বারা আহরিত খাদ্যকণা। এমতাবস্থায়, সিজদা দিতে দিতে কপালে দাগ ফেলে দিলেও কোনো লাভ হবে কিনা বিজ্ঞ আলেমের সাথে পরামর্শ করে জেনে নেয়া উচিত।
✅
শরীর/ঘর শয়তানি জিনিসপত্র থেকে পবিত্র রাখা
হয়ত কারও ঘরে কুকুর আছে, আছে কোনো প্রাণীর ছবি। সেখানে রহমতের ফেরেশতা ঢুকবে না। হয়ত শরেঈ কোনো শিরক, কুফর মিশ্রিত তাবিজ-কবচ আছে। এই কারণে আল্লাহর সাহায্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।
✅
আমল পূর্ণ না হওয়া
ডাক্তার যখন প্রেস্ক্রিপশন লিখেন তখন একটা সময় লিখে দেন যে, এই ওষুধ এত দিন খাবেন, এতবার করে খাবেন। এরপর আবার আসবেন। শরীর সুস্থ না হলে পরবর্তী কথা শুনে দরকার হলে ওষুধ পরিবর্তন করে দেন বা আরও চালিয়ে যেতে পারেন। আমল, রুকইয়াহর ক্ষেত্রেও এমন হতে পারে। হয়ত যতদিন আমল করলে আমি সুস্থ হব ততদিন আমল করিনি, যতবার করলে কাঙ্খিত বস্তু পাওয়া যাবে ততবার করি নি। কাজেই চালিয়ে যাওয়া, হতাশ না হওয়া।
উপরোক্ত বিষয়গুলো যদি কারও ক্ষেত্রে ঠিকও থাকে আর সে ভাবে তার কোনো কাজে আসছে না তাহলে সেটা ভুল ধারনা। আমলের ফলাফল বোধগম্য হতেই হবে এমন কোনো শর্ত আছে কি? আপনার এই অসুস্থতা/বিপদ না থাকলে আপনি হয়ত এখন যেভাবে আল্লাহকে ডাকছেন সেভাবে ডাকতেন না। আপনি হয়ত আর দশজন মানুষের মতই গাফেল থাকতেন। আপনার তো আল্লাহর শুকরিয়া করা উচিত যে, আল্লাহ তায়ালা আপনাকে ভালবাসেন বলেই এমন পরিস্থিতিতে ফেলেছেন যেন আপনি আল্লাহ তায়ালাকে ডাকেন। আপনি বিশ্বাস রাখেন, এই বিপদের বদলা হিসেবে আল্লাহ তায়ালা এমন পুরস্কার দিবেন যে আপনার অন্তর প্রশান্ত হয়ে যাবে।
[ নিজের কর্মফল ভোগ করাকে এই পোস্টের সাথে গুলিয়ে না ফেলি ]

হায়েজ (পিরিয়ড) অবস্থায় আমল করা প্রসঙ্গ

 ইস্তেহাযা এই পোস্টের আলোচ্য বিষয় নয়। যারা জানেন না ইস্তিহাযা কি তারা জেনে নিবেন।

হায়েজ (পিরিয়ড) এবং নেফাস (সন্তান জন্ম দেবার পর যে রক্তস্রাব হয়) অবস্থায় মেয়েদের সালাত, সাওম আল্লাহ মাফ করেছেন। সালাত একেবারে মাফ হলেও, সাওম পরে আদায় করতে হয়।
এই নিষেধাজ্ঞার চক্করে পড়ে অনেকেই এই অবস্থায় একদম গাফেল হয়ে যান। হয়ত মনে করে মুখ দিয়ে "আল্লাহ" শব্দটাও এই অবস্থায় বের করা যাবে না। অলসতার কারনেই হোক বা অজ্ঞতার কারণেই হোক অনেকেই এই সময় আমলে দুর্বল হয়ে যান, করেন না বা করতে চান না। কিন্তু এটা আদৌ উচিত নয়।
পিরিয়ড হোক বা নেফাস অবস্থায় থাকেন, আপনাদের উচিত হবে আল্লাহর যিকর, দুয়া, দরূদ, ইস্তেগফার এবং কুরআনের যেসমস্ত আয়াত হেফাজতের আমল হিসেবে বা দুয়া হিসেবে পড়ার অনুমতি আছে সেগুলো পড়া। এই প্রসংগে একটি ফতোয়া দিচ্ছি।
"পিরিয়ডে এমন সব আয়াত পড়া যাবে যেসব দোয়ার অর্থ প্রকাশ করে। অথবা আল্লাহর জিকির, প্রশংসা, বড়ত্ব বুঝায়। এ অবস্থায় এমন কোন আয়াত পড়া যাবেনা যা দ্বারা আল্লাহর নির্দেশ এবং নিষেধাজ্ঞা, পূর্বের অথবা ভবিষ্যতের কোন ঘটনা অথবা ঘটনা সম্পর্কিত তথ্য বুঝায়। মোটকথা, এ অবস্থায় সাধারণ তেলাওয়াতের উদ্দেশ্যে কোরআন পড়া যাবেনা।
উল্লেখিত মূলনীতি অনুসারে, আপনি যদি নিয়ত রাখেন আল্লাহর প্রশংসাপূর্ণ আয়াতের মাধ্যমে জিন এবং শয়তানের ক্ষতি থেকে সুরক্ষার জন্য পিরিয়ডের সময় ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি, তিনকুল (সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস) পড়বেন, তাহলে দোয়া হিসেবে এটা পড়া যাবে। তবে আপনি সুরা কাফিরুন পড়তে পারবেন না কারণ এটা উপরের উল্লেখিত শর্ত পূরণ করে না।
আল্লাহ তা’আলাই ভালো জানেন।
দারুল ইফতা
দারুল উলুম দেওবন্দ
(Fatwa: 212/227/N=1433)"

তাহলে বোঝা গেল, কুরআনুল কারীমে যেসব দুয়ার আয়াত আছে, যেসব আয়াতে আল্লাহর বড়ত্ব, প্রশংসা, জিকির ইত্যাদি আয়াত আপনি নিজের সুরক্ষার জন্য, শয়তান থেকে হেফাজতের জন্য পড়তে পারবেন।
কেউ কেউ একধাপ এগিয়ে গিয়ে এই কথাও বলেন, পিরিয়ড/নেফাসের সময়টাতে মেয়েরা প্রতি সালাতের ওয়াক্তে কিছু না কিছু জিকির, দুয়া করবে, গাফেল হবে না। [ এটা বাধ্যতামূলক না, গুরুত্ব বোঝানোর জন্য লিখলাম ]
আর নিজেকে সব ধরনের ক্ষতি থেকে হেফাজতে রাখতে এই আমলগুলো খুবই জরুরী।

আল্লাহ তায়ালা সহজ করে দিন, কবুল করে নিন। তৌফিক দান করুন। আমীন।

রুকইয়াহর নিয়ম কানুন কি খুবই স্ট্রিক্ট

রুকইয়াহর নিয়ম কানুন কি খুবই স্ট্রিক্ট? যা বলা হয় তাই পয়েন্ট টু পয়েন্ট ফলো করা লাগে?

জ্বি না, আদতে ব্যাপারটা তা না। কবিরাজি আর রুকইয়াহর মধ্যে একটি বিশেষ পার্থক্য হল, কবিরাজিতে ফ্লেক্সিবিলিটি নেই যা রুকইয়াহতে আছে। কবিরাজিতে কবিরাজ আপনাকে অদ্ভুত সব শর্ত দিবে আর আপনাকে সেভাবেই ফলো করতে হবে। যদি বলে শনিবারে যেতে হবে তাহলে শনিবারেই যেতে হবে। শুক্রবার বা রবিবারে গেলে হবে না। কিন্তু রুকইয়াহর ক্ষেত্রে বিষয়গুলো এমন না। রুকইয়াহর জন্য কোনো শনি, রবিবার বা বিশেষ কোনো দিন নেই। যেকোনো দিন আপনার সুবিধামত সময়ে শুরু করতে পারবেন।
তবে অসুস্থদের সুবিধা বা আরামের কথা চিন্তা করে আমরা মাঝে মাঝে কিছু কথা বলি। যেমন, গোসলের আগে কুরআন তেলাওয়াত, অডিও শুনতে বলি। কারণ, তেলাওয়াত করলে, অডিও শুনলে অনেক সময় শরীর খারাপ লাগে, অস্বস্তি লাগে, জায়গায় জায়গায় ব্যথা হতে পারে ইত্যাদি। তখন গোসল করলে আরাম লাগে। মনে রাখতে হবে, তেলাওয়াত করার পর বা অডিও শোনার পর গোসল করা বাধ্যতামূলক নয়। গোসল করতে না পারলে পড়া পানি খান, অযু করে নিন। তাতেও ইন শা আল্লাহ খারাপ লাগা কমবে।
আবার ডিটক্সের পোস্টে লেখা সকালে উঠে গোসলের কথা। তাহলে কি ফজরের নামাযের আগেই গোসল করতে হবে? না, আপনার সুবিধামত করতে পারবেন। দুপুরে করলেও কোনো সমস্যা নেই। করলেই হল।
ফ্লেক্সিবিলিটি আছে। কাজেই এমন মনে করার কোনো কারণ নেই যে, সকালের গোসল দুপুরে করলে রুকইয়াহ হবে না। আবার প্রথম থেকে করা লাগবে। আগের গুলা সব বাতিল হয়ে যাবে না। নিশ্চিন্তে চালিয়ে যান ইন শা আল্লাহ।
রুকইয়াহ একটি চিকিৎসা ব্যবস্থা, কোনো শিকল নয় যা আপনাকে পেচিয়ে ধরে আটকে রাখবে।

Friday, April 17, 2020

আমার যদি সেন্টার থাকতো!

[দায়মুক্তি কথাবার্তাঃ আমার কোনো সেন্টার নেই। আমি কোনো সেন্টারে বসিও না। কাজেই যারা ভাবছেন “এই লোকেরতো সেন্টার নেই, সেন্টারে বসেও না তার থেকে আর কি শিখবো”- তারা প্লীজ এখানেই ক্ষান্ত দেন। নিচে নেমে আর সময় নষ্ট করবেন না।]
একজন পেশেন্টকে কিভাবে সামলানো উচিত- এ নিয়ে আমি মনেকরি প্রত্যেক রাক্বী ভাইয়ের চিন্তা-ভাবনা করা উচিত। কিভাবে আরও ভালভাবে সামলানো যায়-সেটাও ভেবে-চিন্তে বের করা উচিত। তাহলেই ইনশাআল্লাহ সার্ভিস আরও উন্নত হবে। সেন্টার নেই বলে, ভাবতে পারবো না- এমন বিধিনিষেধতো কেউ জারি করে নি। আর আমার ভাবনা কাউকে গ্রহণ করতেই হবে-এটাও আমি মনে করি না।
১। আমি চাইবো কেউ যখন আমার কাছে কোনো সমস্যা নিয়ে আসে তার আস্থা অর্জন করার জন্য যে, “ভাই, আপনি সঠিক পথে চলতে চেয়েছেন, আল্লাহ তায়ালা আপনাকে পথ দেখিয়েছেন। ইন শা আল্লাহ আপনি সুস্থ হয়ে যাবেন। কুরআন ও সুন্নাহমত চিকিৎসা পদ্ধতি ফলো করেন। এটা সঠিক রাস্তা। আর আগে কি করেছেন না করেছেন সেগুলোর জন্য আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে ক্ষমা চেয়ে নিন। আপনার সমস্যা যত জটিলই হোক, আল্লাহর তায়ালার জন্য এটা খুবই সহজ। আপনি আল্লাহর থেকে চেয়ে নিন। বাকি আপনাকে আমার পক্ষ থেকে যতটুকু পরামর্শ দেয়ার ইন শা আল্লাহ পাবেন।”

রুকইয়াহর পেশেন্টকে মারধর করা প্রসঙ্গ

USN রুকইয়াহ সার্ভিস
রাক্বী আহমাদ রবীন
৪০ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন
(এখানে থাপ্রে জ্বিনের দাত ফেলা হয়)
ফোনঃ _____________________

এমন সাইনবোর্ড থেকে থমকে দাঁড়াবেন? অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকবেন?
আমি কিন্তু খুব একটা অবাক হব না। কেন অবাক হব না সেটাও বলি। ইতোমধ্যে কিন্তু এমন ঘটনা ঘটেছে। এতে জ্বিনের দাত পড়েছে কিনা সেটা আমার জানা নেই। পড়তেও পারে, কত অবাক করার বিষয় দুনিয়াতে ঘটে! এটাও ঘটতে পারে। কে জানে!
ভিনগ্রহের কোন প্রাণী এসে রুকইয়াহ করেনি। আমাদেরই কোনো ভাই করেছেন। রুকইয়াহর আয়াত তেলাওয়াত করছেন আর রোগীকে থাপ্রাচ্ছেন। পাশেই রোগীর আত্মীয়-স্বজন সেগুলো হজমও করছেন।
আত্মীয়দের দোষ দেই না। বহু বছর ধরে জ্বিন/যাদুর সমস্যায় ভুগছে পরিবারে আদরের কোনো সদস্য। কত আর সহ্য করা যায়। বাই হুক অর বাই কুক, এর থেকে নিস্তার পেতে হবে। যেখানে যার কথা শুনেন সেখানেই রোগী নিয়ে দৌড় দেন।(কুফুরীতে লিপ্ত ভন্ড কবিরাজ/হুজুররা কিভাবে রোগীর ফায়দা নেয় সেটা লিখতে গেলে আরও অনেক অনেক নিচের রূচিতে নামতে হবে।) কোথাও কোনো ফায়দা হয় না। কিছুদিন হয়ত ভাল থাকে তারপর আরও দ্বিগুন শক্তিতে ফিরে আসে। এরই মধ্যে কেউ যদি বলি সহিহ, শরঈ পদ্ধতিতে অমুকে করে তাহলে তার কাছে যাওয়া বা তাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে আসা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু এরপরই ঘটে আশাভঙ্গের ঘটনা।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে কি করনীয়

প্রথমেই বলে নেই, আমি কোনো আলেম নই। বলতে গেলে তেমন কিছু জানিও না। কাজেই আমার এই কথাগুলো সর্বশেষ কথা না। কোনো যোগ্য ব্যক্তি যদি বলেন আমি যেভাবে বলেছি কথাগুলো সেভাবে না বরং অন্যরকম তবে তার কথাই ঠিক। আর নিম্নোক্ত পরামর্শ অবশ্যই ডাক্তারী পরামর্শের পাশাপাশি অনুসরণ করতে হবে।
১। হাদিসে এসেছে, “আল্লাহ তায়ালা যত প্রকার রোগই সৃষ্টি করেছেন, প্রত্যেক রোগেরই ঔষধ সৃষ্টি করেছেন।” কাজেই করোনাও চিকিৎসাযোগ্য রোগ। আল্লাহর হুকুমেই তা প্রতিরোধ করা সম্ভব। অতএব, এই রোগের ঔষুধের জন্য চেষ্টা ফিকির করতে হবে এবং আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইতে হবে।
২। কালোজিরা খাওয়া। হাদিসে এসেছে, “কালোজিরা একমাত্র মৃত্যু ব্যতীত সর্ব রোগের অব্যর্থ মহৌষধ।”

জ্বিনের রোগীকে জেরা

ধরেন আমি কোনো সেন্টারে বসি। আরও ধরেন, আপনার নিকট আত্মীয়া অসুস্থ আর আপনি আমার কাছে রুকইয়াহ করাতে এসেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমি বুঝতে পারলাম এখানে রুকইয়াহ করা উচিত। শুরু করার পর জ্বিন হাজির হল। কথাবার্তা চালালাম। বুঝতে পারলাম জ্বিনটা মেয়েটার উপর ইচ্ছামত অত্যাচার করে। এবার আমি ধর্ষণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হয়ে গেলাম।
"করছো?"
"কয়বার করছো?"
"কেমনে করছো?"

ভেবে দেখেন আপনার সামনে আপনার মা/বোন/স্ত্রী/মেয়েকে আমি এই প্রশ্নগুলো করছি। আপনার কেমন লাগবে? আমার মুখের মানচিত্র পরিবর্তন করে দিতে ইচ্ছা করছে?
স্বাভাবিক, করারই কথা।

রুকইয়াহ করার সময় কান্না পেলে

রুকইয়াহ করার সময় বা করানোর সময় কাঁদলে বা কান্না পেলে জ্বিনের সমস্যায় আক্রান্ত?
রুকইয়াহ করার সময় জ্বিন দ্বারা আক্রান্ত কেউ কাঁদতে পারে। তবে কান্না করলেই যে জ্বিন দ্বারা আক্রান্ত-এমনটা নাও হতে পারে।
আল্লাহ তায়ালার কালামের আলাদা তাছির বা প্রভাব রয়েছে। এর প্রভাবে পাথর হৃদয়ও গলে যায়। যারা রুকইয়াহ করেন বা রুকইয়াহ করাতে কোনো রাক্বীর কাছে যান তাদের হৃদয় ক্ষত বিক্ষত এমনিতেই থাকে। ক্বারীদের/রাক্বিদের কন্ঠে সুমধুর তেলাওয়াত তাদের মনোজগতে তোলপাড় তুলতেই পারে। কুরআনের তাছিরে কান্না আসতেই পারে। এমনিতেও আপনি যদি কোন কুরআনের তেলাওয়াত মন দিয়ে শুনেন আপনার হৃদয় গলতে বাধ্য।
হয়ত তার কোন পুরনো কথা মনে পড়েছে। মনের গভীরের সুপ্ত কোন ব্যথা জেগে উঠেছে সেসব কথা মনে করেই কান্না পাচ্ছে।
আবার সে জ্বিন/যাদুর রোগীও হতে পারে।
সাইকোলজিক্যাল ও স্প্রিরিচুয়াল দুইটি আলাদা বিষয়। এখন দক্ষ রাক্বীর উচিত হল এসব বিষয় চিন্তাভাবনা করা। যদিও রুকইয়াহতে কোনো ক্ষতি নেই। তবুও সঠিক চিকিৎসা একজন মানুষ যেন পান সেটিও যথাসাধ্য নিশ্চিত করা উচিত।

কোয়ান্টামের ফাকি

কোয়ান্টামের সাথে ইসলামের দ্বন্ধটা কোথায় সেটা নিয়ে আগে অনেক ভেবেছি। কলিগরা যখন আমাকে নানান কথা বলতো। আমি পালটা প্রশ্ন করতাম। কোন উত্তর পেতাম না। আমিও তাদের কনভিন্স করতে পারতাম না, তারাও আমাকে পারতো না।
কোয়ান্টার নিয়ে আগে আরও দুইটি লেখা আমার ছিল। সেগুলো নোট আকারে আছে সংরক্ষিত। সেখানে অনেক কথাই এসেছে। আমার বিবেক বিবেচনা আমার কাছে, আপনার বিবেক বিবেচনা আপনার কাছে। আমি কোনও কিছু প্রমান করতে চাচ্ছি না। আমি শুধু বলছি, আপনার ইচ্ছা হলে শুনবেন, না হলে কে জোর করছে?
রুকইয়াহ গ্রুপের সাথে যুক্ত হবার পর নানান জায়গা থেকে ফোন আসে। তেমনি একজন ফোন দিলেন। কথায় কথায় জানলাম তিনি কোয়ান্টামের প্রো মাস্টার্স কোর্স করা। তিনি আমাকে বললেন, প্রো মাস্টার্স কোর্সে শেখায় কিভাবে মনের ভিতরে অন্তর্গুরু বসাতে হয়। যেকোন কিছু দরকার করে অন্তর্গুরুর কাছে চাইতে হয়।

অনিদ্রা/ইনসমনিয়ার জন্য রুকইয়াহ পরামর্শ


"যারা রাতে ঘুমাতে পারেন না তাদের জন্য আমার নির্দেশনা হল বিছানায় থেকে উঠে সালাতে মনোনিবেশ করা। আমি বিশ্বাস করি এটি অনিদ্রারোগীদের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী চিকিৎসা বিশেষ করে শয়তানের কারনে যারা ইনসমনিয়ায় ভোগে।
এছাড়াও আমি অনিদ্রারোগীদের
এবং
২। রুকইয়াহর গোসল https://facebook.com/ruqyahbd.official/posts/578656885874022
করতে বলে থাকি।"
- মূলঃ মুহাম্মাদ তিম হাম্বল

নব্য কবিরাজদের পদধ্বনি

দুই ধরনের কবিরাজদের কথা জানি। প্রথম প্রকারে রয়েছেন অনেক মুফতি, মাওলানা, মসজিদের ঈমান, মাদ্রাসার শিক্ষক, খানকার গদীনসীন পীর, মাজারের খাদেমসহ অন্যধর্মের উপাসক, শিক্ষক, প্রশিক্ষক, তান্ত্রিক এবং আরও কিছু লেবারসধারী মানুষ। আমরা যারা সাধারণ মানুষ আছি তাদের মধ্যে জীবনে কখনো কোন কবিরাজের কাছে যায় নি, এমন মানুষ মনে হয় রেয়ারই হবেন।
তাদের যে নামেই ডাকা হোক না কেন, তাদের কর্মপদ্ধতি কাছাকাছি। জেনে-বুঝে হোক বা অজ্ঞতার কারণেই হোক তারা শিরকি, কুফরি কর্মকাণ্ড তথা শয়তানের পুজায় লিপ্ত। যতবড় ইসলামী টাইটেলওয়ালা হোক না কেন তারা ইসলাম থেকে বহুদূরে চলে গিয়েছে। শয়তান তাদের ধোকার মধ্যে রেখেছে, করেছে পথভ্রষ্ট। এই বিষয়ে কিছুটা বিস্তারিত এই লিংকে পাবেন। লিংকের সবলেখাগুলো না থাকলেও কিছু কিছু লেখা পাবেন ইনশাআল্লাহ।

Friday, July 12, 2019

একজন রাক্বির স্বভাব-চরিত্র কেমন হওয়া উচিত?

রাক্বির স্বভাব-চরিত্র কেমন হওয়া উচিত বা কি কি গুনাবলি সম্পন্ন হওয়া উচিত তা বোঝার আগে রাক্বি কি বোঝা দরকার।

এককথায় যিনি রুকইয়াহ করেন তাকে রাক্বি বলে। কনিফিউশন হল? যে রুকইয়াহ করে তাকে রোগী না বলে রাক্বি কেন বলছি?

আসলে রোগি রুকইয়াহ করাতে যার কাছে যান তিনি রাক্বি। রাক্বি রোগির উপর সরাসরি কুরআনের আয়াত বা হাদিসের দুআ' পাঠ করে রুকইয়াহ করেন, বিভিন্ন ধরনের শরঈ পরামর্শ দেন। যেহেতু মাঠ পর্যায়ে রুকইয়াহ করা মানে একপ্রকার শয়তানের সাথে যুদ্ধ করা সেহেতু রাক্বির কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যের দরকার আছে যার দ্বারা তিনি আল্লাহর হুকুমে শয়তানের উপর বিজয়ি হবেন। ইনশাআল্লাহ এই গুনগুলো যাচাই-বাছাই করলে যে কেউ বুঝতে পারবেন রাক্বি কতটুকু ইসলামের উপর আছেন বা আদৌ তার থেকে কোন পরামর্শ / সেবা নিবেন কিনা।

মনে গেঁথে নেয়া উচিত, রাক্বি যদি হারাম শরীফের ঈমাম সাহেবও হন, কিন্তু আল্লাহর হুকুম নেই তাহলে রোগি রোগমুক্ত হবে না। কাজেই রাক্বির উপর নির্ভরশীল না হলে আল্লাহর উপর সম্পূর্ণ ভরষা করতে হবে।